আজ
|| ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
পলিথিনের ছাউনিতে জীবন: কেশবপুরে অসহায় জালাল উদ্দীনের করুণ বাস্তবতা
প্রকাশের তারিখঃ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রায়হান রনি, কেশবপুর
আসমানী
– জসীম উদ্দীন
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।
পল্লী কবি – জসীম উদ্দীন এর কবিতার আসমানীদের দেখা মিললো কেশবপুরের বায়সা গ্রামে
মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ, নেই নিশ্চিন্তে ঘুমানোর মতো একটি ঘর। ঝড় এলেই বুক কেঁপে ওঠে, বৃষ্টি নামলেই ভিজে যায় বিছানা। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে ভাঙা টিনের ওপর পলিথিন টানিয়ে কোনোভাবে আশ্রয় নিয়েছেন জালাল উদ্দীন। একটুখানি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন নিয়েই প্রতিদিন নীরবে সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মজিতপুর ইউনিয়নের বায়সা গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দীনের জীবন যেন দুঃখ-কষ্টের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। গত দুই বছর ধরে তিনি একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা টিনের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরের টিন প্রায় নেই বললেই চলে। বৃষ্টি নামলেই পানি পড়ে ঘরের ভেতর, আর ঝড়ো হাওয়া উঠলেই শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ভয় গ্রাস করে তাকে। বাধ্য হয়ে ছাউনির জায়গায় পলিথিন টানিয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই একাকিত্ব আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করছেন জালাল উদ্দীন। প্রথম স্ত্রী ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রী বাড়ির সব অর্থ নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে সম্পূর্ণ একাই জীবনযাপন করছেন তিনি। রান্না থেকে শুরু করে ঘরের সব কাজ তাকে নিজেকেই করতে হয়। স্থায়ী কোনো আয় না থাকায় ভাঙা ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্যও তার নেই।
তার একমাত্র ১৩ বছর বয়সী মেয়েও মানসিক ভারসাম্যহীন। অভাবের কারণে মেয়ের চিকিৎসা ও দেখভাল করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। ফলে বাধ্য হয়ে মেয়েটিকে অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে রাখতে হয়েছে।
জালাল উদ্দীন বলেন, “একটা নিরাপদ ঘর থাকলে অন্তত শান্তিতে থাকতে পারতাম। ঝড়-বৃষ্টিতে খুব ভয় লাগে। কেউ যদি একটু সাহায্য করত, তাহলে বাকি জীবনটা অন্তত নিরাপদে কাটাতে পারতাম।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
Copyright © 2026 বর্নমালা ৭১. All rights reserved.